Home

বৃহন্নলা: তবুও ভিন্ন কেন আকাশ

১৪ই মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় ভূতত্ত্ব বিভাগের মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছিল একটি পাবলিক লেকচার; যার শিরোনাম “বৃহন্নলা: তবুও ভিন্ন কেন আকাশ”। অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য ও তাঁদের প্রতি বৈষম্য তুলে ধরা। বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স সোসাইটি।

অনুষ্ঠানটির শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুশতাক ইবনে আয়ূ্বের আলোচনার মধ্যে দিয়ে। তিনি প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও বয়সের সাথে মানুষের যৌন বিকাশকে কেন্দ্রে রেখে আলোচনা করেন। সমাজের সবাইকে তিনি আহবান জানান বাধাধরা চিন্তাভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আমাদের সবার মতই মানুষ, তারাও প্রকৃতির স্বাভাবিক সৃষ্টি। তাঁরা কোন ত্রুটির শিকার না।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস আলোচনা করেন সংস্কারাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি কিভাবে মানব সমাজে যুদ্ধ বিগ্রহ ও ক্লেশ ডেকে নিয়ে আসে। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের বৈচিত্র্যময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং সহনশীল, বহুবাদী, ও অন্তর্ভুক্তিকর সমাজের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেন। জনশুমারীতে তৃতীয় লিঙ্গের অন্তর্ভুক্তি, রাজনীতি ও গণমাধ্যমে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবী জানান তিনি। সম্পত্তিবণ্টন, আবাসন, চিকিৎসা সহ বিভিন্ন সেবা পাবার নিশ্চয়তা প্রদানেও সরকারের উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।

বক্তা হিসেবে আরও ছিলেন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মী ওহিদুল ইসলাম পার্বতী (জুনিয়র অফিসার, প্রোগ্রাম), তাসনুভা আনান শিশির (প্রজেক্ট অফিসার), ও সামিউল আলিম শাম্মী (জুনিয়র অফিসার, লিয়াজন)। তাঁরা ট্রান্সওম্যান হিসেবে তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা শ্রোতাদের জানান। সমাজে তাঁদের প্রতিনিয়ত বৈষম্যের সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং নিজের একটা পেশাদার জীবন গড়ে নিতে কি পরিমাণ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তা বলেন। তাঁরা যে আসলে পিছিয়ে পড়া নয়, বরং সমাজ কর্তৃক পিছিয়ে দেয়া জনগোষ্ঠী সেটাও বলেন। এতকিছুর পরেও তাঁরা সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, নিজের জন্য ও অন্যান্য তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য। কথাগুলো ছুঁয়ে গেছে উপস্থিত সবাইকেই। মঞ্চে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রতিনিধি শোভা সরকার (জুনিয়র অ্যাডভোকেসি অফিসার), ও ফরিদুল ইসলাম জোনাক (জুনিয়র অফিসার, প্রোগ্রাম)।