Home

ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি (ডিইউএসএস) “সামার ক্যাম্প ২০১৯”

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় গবেষণার সুযোগ নিতান্তই অপ্রতুল। বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরেও বেশিরভাগ বিভাগেই শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী গবেষণায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান না। হাতে কলমে কোনো উদ্ভাবনে অংশ নেয়ার সুবিধাও নেই অনেক পরীক্ষাগারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গবেষণা নিয়ে ধারণা পান না এবং পরবর্তীতে গবেষণায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেখানে হাইস্কুল পর্যায় থেকেই নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুষ্ঠিত সামার ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে, সেখানে আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এমন সুযোগের অবকাশ না থাকা দুঃখজনক।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি ২০১৮ সালে একটি সামার ক্যাম্প আয়োজন করে ড. খন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানীর তত্ত্বাবধানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বারের মত আমরা ২০১৯ সালে সামার ক্যাম্প আয়োজন করতে যাচ্ছি। এখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সেরাজের তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি ল্যাবরেটরিতে এক সপ্তাহব্যাপী একটি সামার ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন। শিক্ষার্থীরা পরিচিত হবেন প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্ভাবনী গবেষণার সাথে, একই সাথে হাতে কলমে কাজ করতে পারবেন দুটি প্রজেক্টের যেকোন একটিতে।

আয়োজনে: ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি (scienceduss.org)
পরিচালনায়: প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি ল্যাব, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
(https://pbtlabdu.net/)
ক্যাম্প ভেন্যু: প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি ল্যাব, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রজেক্টের বিষয়বস্তু:
দুটি প্রজেক্ট থাকবে যার মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে শিক্ষার্থীদের। লক্ষণীয় যে প্রতি প্রজেক্টের কাজ হবে পাঁচদিন করে। সুতরাং মূল ক্যাম্প ১২-২২ মে হলেও, প্রজেক্টের উপরে নির্ভর করে ১২-১৬ মে অথবা ১৮-২২ মে উপস্থিত থাকতে হবে অংশগ্রহণকারীদের।

একটি প্রজেক্টে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবেন ক্রিসপার-ক্যাসনাইন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ধানের জিনোম সম্পাদনা নিয়ে। এখানে DST(Drought and Salt Tolerance) জিন নিয়ে কাজ করা হবে। এই কাঙ্ক্ষিত জিন সম্পাদনার জন্য দরকারী ক্রিসপার ক্যাসনাইন প্লাজমিড বহনকারী ব্যাকটেরিয়া কালচার থাকবে। এবং কিভাবে এই ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে উদ্ভিদকে In Planta Transformation করা যায় তা হাতেকলমে শিখতে পারবেন এই প্রজেক্টের মাধ্যমে।

আরেকটি প্রজেক্টে শিক্ষার্থীরা জানবেন Plant Microbe Crosstalk নিয়ে। কিভাবে বিভিন্ন অণুজীব ধানের উপর প্রভাব ফেলে এটা যেমন তারা জানবেন, তেমনি এ নিয়ে হাতেকলমে কাজও শিখবেন। এখানে শিক্ষার্থীরা অণুজীবের কালচারে বিভিন্ন বায়োকেমিক্যাল টেস্ট করবেন এবং পরবর্তীতে সেই অণুজীব উদ্ভিদে প্রবেশ করলে কি প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

সামার ক্যাম্প শেষে ২৩ মে তারিখে অভিজ্ঞানপত্র প্রদানের দিন প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী এখানে আহরিত জ্ঞানের ভিত্তিতে করা সম্ভব এমন একটি আইডিয়া নিয়ে পোস্টার প্রদর্শন করবেন।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ:
৭ মে, ২০১৯: আবেদনের শেষ তারিখ
১০ মে, ২০১৯: সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও নির্বাচন
১২ – ২২ মে, ২০১৯: মূল ক্যাম্প (দুপুর ১:৩০ – বিকাল ৫:৩০ টা)
২৩ মে: পোস্টার প্রদর্শনী ও অভিজ্ঞানপত্র বিতরণী অনুষ্ঠান।

ক্যাম্পের নিয়মাবলী:

১। অংশগ্রহণকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা (এপ্রিল, ২০১৯ পর্যন্ত):
বাংলাদেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ১ম বা ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত।
২। আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে ৭ মে, ২০১৯ এর মধ্যে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
৩। প্রাথমিকভাবে ৫০ জনকে নির্বাচিত করা হবে এবং পরবর্তীতে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ১০ জন শিক্ষার্থী ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। ১০ জন শিক্ষার্থীকে পরবর্তীতে ২ টি গ্রুপে ভাগ করে দেয়া হবে দুইটি প্রজেক্টের জন্য।
৪। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে যার যার বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে, এ মর্মে, তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে/উক্ত বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী। সেটি ১০ মে, ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকার পর্বে প্রদর্শন করতে হবে। সাক্ষাৎকারের স্থান ও সময়সূচি ইভেন্ট পেইজে দিয়ে দেয়া হবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য:

১। ১১ মে, ২০১৯ এর মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নাম জানিয়ে দেয়া হবে। শুধুমাত্র নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি হিসেবে ৩০০০ টাকা দিতে হবে। ফি দেয়ার নিয়মাবলী ও বিকাশ/রকেট নম্বর সিলেকশনের পর ফেসবুক ইভেন্টে ও মেইলে জানিয়ে দেয়া হবে।
২। ২৩ মে, ২০১৯ তারিখে (সম্ভাব্য) প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে তাদের কাজ নিয়ে একটি পোস্টার প্রদর্শন করতে হবে। পোস্টার প্রদর্শন ও অভিজ্ঞানপত্র প্রদানের সময় পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।
৩। প্রদর্শনীটি হবে সকলের জন্য উন্মুক্ত।
৪। ঐ দিনই সকল অংশগ্রহণকারীকে অভিজ্ঞানপত্র প্রদান করা হবে।

নিয়মিত আপডেট পেতে: scienceduss.org
ডিইউএসএস ফেসবুক পেইজ: fb.com/DUScienceSociety

[[ ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করতে চাইলে আবেদন করুন এই ঠিকানায়: https://forms.gle/GSGs2SPHtk7Q7MHH8
আবেদনের শেষ তারিখ ৭ মে, ২০১৯ ]]