পাবলিক লেকচার: বিউপনিবেশিত বিশ্ববিদ্যালয়

23737989_1866490953378575_4171009201930362995_o

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স সোসাইটির এবারের পাবলিক লেকচারের বিষয়বস্তু: ‘বিউপনিবেশিত বিশ্ববিদ্যালয়’। বক্তা হিসেবে থাকছেন সুপরিচিত লেখক ও গবেষক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ নিজার আলম।

যদি কাউকে বলা হয় ১২০০ বছর পূর্বে রাজা ধর্মপাল নির্মিত সোমপুর মহাবিহার(বৌদ্ধবিহার) বঙ্গদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় এবং যদি বলা হয় এই মতাদর্শে এদেশের এখনকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলো চালানো দরকার, তাহলে অনেকেই চোখ কপালে তুলতে পারেন। এমনকি মহাবিহারগুলো যে এক একটা বিশ্ববিদ্যালয় তা নিয়েও অনেকে তর্ক জুড়ে দেবেন। কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে বসতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞা জানেন তো আপনি?

সত্যি কথা বলতে কি, ইউরোপিয়ান রূপরেখার আদলে তৈরি এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমরা ঠিক মাটির ঘ্রাণ পাই না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এজন্যে প্রাণও নেই কোনো।
বিশ্ববিদ্যালয় এখন সেবা বিক্রেতা আর ছাত্ররা সেবা ক্রেতার মত। যেখানে ক্রয় বিক্রয় সম্পর্ক সেখানে জ্ঞান লাভ বা প্রয়োগ তথা উদ্ভাবন আদৌ সম্ভব?

এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শাখা-প্রশাখার শেষ নেই। কিন্তু এতে আসলে লাভ হচ্ছে কি? তাই বিভাগভিত্তিক বিভাজন বাদ দিয়ে পদ্ধতি ভিত্তিক বিভাজন করার সময় হয়ে গেছে।
ইউরোপীয় রূপরেখার আদলে কেন এখনো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলবে? এর পরিবর্তন অবশ্যই দরকার। তবে কীভাবে তা করা যেতে পারে? আমাদের নিজস্ব রূপরেখাই বা কোনটা? ইতিহাস কী বলে?

এবারের পাব্লিক লেকচারটিতে সবার যোগদানের মাধ্যমে এর একটা সুন্দর সমাধান তৈরির শেকড় গজাতেই পারে। তাতে আমরা জানতে পারব:

১। ইউরোপিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমাদের ঔপনিবেশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসটুকু,
২। কীভাবে নিজেদের ইতিহাস, ভারতীয় দর্শন, গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমাদের নিজেদের মতন (বিউপনিবেশিত করে) গড়ে তোলা যায়,
এবং
৩। নন-ওয়েস্টার্ন বা আমাদের প্রাচ্যের দর্শনকে একটি গাণিতিক লজিক সিস্টেমের মাধ্যমে কী করে ব্যাখ্যা করা যায়।

বক্তা পরিচয়:
সৈয়দ নিজার আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক, বাংলাদেশ দর্শন সংঘের আহবায়ক এবং সুপরিচিত লেখক ও গবেষক। বর্তমানে আছেন নিউজিল্যান্ডের ক্যান্টারবারি বিশ্ববিদ্যালয়ে, টিচিং স্টাফ হিসেবে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে পড়েছেন ম্যাথমেটিকাল লজিক, সোশ্যাল সায়েন্স আর ফিলোসোফি নিয়ে। আমাদের চারপাশের জগতকে একটা পূর্ণাঙ্গ ম্যাথমেটিকাল লজিক সিস্টেমে কীভাবে নিয়ে আসা যায়, তা নিয়েই সৈয়দ নিজারের কাজ এবং গবেষণা। বুদ্ধদর্শন তার কাজের অন্যতম আকর্ষণ। বিখ্যাত ট্যুরিং মেশিন নিয়েও কাজ করেছেন তিনি, সাম্প্রতিককালের বাঙালি গবেষক হিসেবে যেটি নিঃসন্দেহে ঈর্ষণীয় এক অর্জন।
তার প্রকাশিত সাম্প্রতিক গ্রন্থ: ভারতশিল্পের উপনিবেশায়ন ও সুলতানের বিউপনিবেশায়ন ভাবনা।

আরো জানতে: http://www.canterbury.ac.nz/get-started/why-uc/student-profiles/student-profiles-by-subject/philosophy/syed-nizar.html

অনুষ্ঠানের তারিখ ও সময়: ২৯শে নভেম্বর, ২০১৭, বেলা ৩:৩০ মিনিট।

পাবলিক লেকচারটি সবার জন্য উন্মুক্ত, তবে আসনসংখ্যা সীমিত বিধায় অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

ফেইসবুক ইভেন্টঃ https://www.facebook.com/events/135294907138631/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *