Public Lecture: Genetically Modified Crops: Necessity & Concerns

28471421_1982397821787887_4139998512937656847_n

মাত্র কয়েক বছর আগের কথা, বাজারে গিয়ে সবাই খুব সাবধানে বেছে বেছে বেগুন কিনতেন যাতে পোকায় ধরা বেগুন ধরিয়ে না দেয় দোকানি। এখন সেসবের বালাই নেই। এখন বরং সবাই তাজা বেগুন খুঁজতে চেষ্টা করেন। কী এমন হলো যে বেগুনে আর কোন পোকা নাই? আবার আপনি যদি জেনেটিকালি মডিফাইড ফুড সংক্রান্ত কোন লেখা পড়েন অথবা কোন লেকচার শোনেন তাহলে দেখবেন সেখানে উদহারণ দেওয়া হচ্ছে বিটি বেগুনের কথা, নির্দিষ্ট করে বললে বাংলাদেশের বিটি বেগুনের কথা। যে বেগুনে পোকা হয় না। কেন এই বেগুনে পোকা হয় না?

উত্তরটা খুঁজতে আমাদের একটু প্রকৃতির দিকে তাকাতে হবে। সরিষা ফুলে মাছিরা বসে না, কারণ সরিষা ফুলে এক ধরনের কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, যা ওই মাছিদের জন্য বিষাক্ত। মাছিদের জন্য বিষাক্ত হলেও আমাদের জন্য ক্ষতিকর কিছু নয়। তাই আমরা দিব্যি সরিষার তেল খেতে পারি, সর্ষে ইলিশ ভেজে খেতে পারি। মাছিরা সরিষা গাছের কিছু করতে পারে না। ফলস্বরূপ সরিষা গাছগুলো বেচে যায়, আমরা পাই ভালো ফলন।

বেগুনের মধ্যে এমন কোনো কেমিক্যাল নেই। তাই নিশ্চিন্তে পোকারা এসে বাসা বাঁধে। এর সমাধান কি নেই? অবশ্যই আছে, কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। তাতে অবশ্য শেষরক্ষা হয় না। কারণ অধিকাংশ কীটনাশকই মানুষের জন্য ক্ষতিকর। ফলন ভালো হলেও দেহে বাঁধে নানা ধরনের রোগ। তবে বেগুনেই যদি সরিষার মতো কোনো কেমিকেল থাকতো? বেগুনের জিন এডিট করে যদি এমন কোন জিনের অংশ ঢুকিয়ে দেওয়া যায় যাতে বেগুনের মধ্যেই উৎপন্ন হয় কোন এক বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ , যা পোকাদের দূরে রাখবে, কিন্তু আমাদের ক্ষতি করবে না। ঠিক এখানেই কাজে আসে জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। এভাবে জিনগত বৈশিষ্ট্যের কিছু পরিবর্তনে তৈরি হওয়া ফসলের নাম জেনেটিকালি মডিফাইড ফুড। একটা উদহারণ হলো বাংলাদেশের বিটি বেগুন।

যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় বেগুনের জেনেটিক লেভেলে পরিবর্তন আনা হয়, তাই স্বাভাবিকই প্রশ্ন জাগে জেনেটিকালি মডিফায়েড ফুড কি আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত? জিএম ফুডে ঢুকানো অন্যজীবের জিন শরীরে যদি নেতিবাচক পরিবর্তন আনে? জেনেটিকালি মডিফায়েড ফুড নিয়ে তাই বিশ্বব্যাপী চলছে বিতর্ক। এক পক্ষ বলছে এভাবেই সাড়ে সাতশ’ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া যাবে। অপরদিকে বিপক্ষ মতের দলের আশংকা এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে। অনেকেই মনে করেন জেনেটিক মডিফিকেশন এখনও ওই পর্যায়ে পৌঁছায় নি যে আমরা শুধু আমাদের উপকারি পরিবর্তনগুলো নিশ্চিত করতে পারব। তাই সম্ভাবনার চাইতে এক্ষেত্রে আশংকা বেশি। এই দলের অনেকে মনে করেন জেনেটিকালি মডিফায়েড ফুড আসলে একটা পুঁজিবাদী প্রোপাগান্ডা। কারণ এসব ফসলের বীজ কৃষককে কিনতে হয় বহুজাতিক কোম্পানির কাছ থেকে, কৃষক নিজে বীজ উৎপাদন করতে পারেন না।

বিজ্ঞানের ভাবনাটা কী এখানে? ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তার সমাধান নাকি আশংকা? আমরা প্রস্তুত নাকি দক্ষতা পাওয়ার আগেই শুরু করে দিয়েছি এইসব মডিফিকেশন? এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই। দেখতে চাই সর্বশেষ গবেষণাগুলো কী বলে। সেজন্যই আমরা ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটির নিয়মিত পাবলিক লেকচারের এবারের পর্বে বিষয় ঠিক করেছি ‘Genetically modified crops: necessity and concerns’ ।

বিজ্ঞানের আকর্ষণীয়, বহুল বিতর্কিত এই বিষয় নিয়ে জানতে আপনি বিশেষভাবে আমন্ত্রিত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *