ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি (ডিইউএসএস) সামার ক্যাম্প ২০১৮

গত ১২ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার, সমাপ্ত হয়ে গেলো ডিইউএসএস সামার ক্যাম্প ২০১৮। ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি আয়োজিত পাঁচদিন ব্যাপী এই ক্যাম্পটির পরিচালনায় ছিলো বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সহযোগিতায় রেলেভেন্ট সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি সোসাইটি।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় গবেষণার সুযোগ নিতান্তই অপ্রতুল। বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরেও বেশিরভাগ বিভাগেই শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী গবেষণায় অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পান না। Summer Camp 2018 হাতে কলমে কোনো উদ্ভাবনে অংশ নেয়ার সুবিধাও নেই পরীক্ষাগারগুলোতে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গবেষণার ধারণা সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকে যান এবং পরবর্তীতে গবেষণায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ক্যাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে বলতে গিয়ে আহ্বায়ক প্রত্যাশা সাহা বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেখানে হাইস্কুল পর্যায় থেকেই গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুষ্ঠিত সামার ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে, সেখানে আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও এমন সুযোগের অবকাশ না থাকা দুঃখজনক।” তাই শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি এবারই প্রথমবারের মত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি সামার ক্যাম্প আয়োজন করেছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলেও শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সাড়া ছিলো ব্যাপক। সারা দেশ থেকে আসা শতাধিক আবেদনের মধ্য থেকে দুই পর্যায়ের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ১২ জনকে ক্যাম্পের জন্য নির্বাচন করা হয়। এরপর ৮ই জুলাই থেকে শুরু হয় তাদের গবেষণার যাত্রা। ক্যাম্পে ক্লাস নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী ও বিভাগের চেয়ারপারসন ড. এম আবদুল কাদির। গবেষণার কাজে সার্বক্ষণিক সহায়তা করার জন্য ছিলেন তিনজন প্রশিক্ষক: কেএম বদিউজ্জামান, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ও হাসান মেহদী।

৫ দিনব্যাপী আয়োজিত ক্যাম্পে শিক্ষার্থীরা ড. রব্বানী ও তাঁর দলের নিজস্ব উদ্ভাবিত ইসিজি এবং ইএমজি যন্ত্রের গঠন ও কার্যপ্রণালি অধ্যয়ন করেন এবং নিজেরা পুনরায় একটি কার্যকরী যন্ত্র তৈরি করেন। ১২ লিড ইসিজি এবং ইএমজি যন্ত্রের মেজারমেন্ট এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কেও বিস্তারিত অধ্যয়ন করেন শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক রব্বানী বলেন, “ল্যাবে ওরা দেখছে একটা সাধারণ ইসিজি যন্ত্রের গঠন। যেটা খুব কম খরচে সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারে। কয়েকজন নিজেরাই একটা ইসিজি মেশিন নিয়ে গেছে। মাত্র ১২০০ টাকা করে, পোর্টেবল। এটা শুধু মডেল না, সত্যিকারের যন্ত্র। হাতে কলমে এমন কাজের জিনিস দেখা একটা বড় ব্যাপার।”

১২ই জুলাই আয়োজনের শেষ দিনে সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা রাখেন অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটির মডারেটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স ও মেকাট্রনিক্স বিভাগের চেয়ারপারসন ড. লাফিফা জামাল। গবেষণার গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, “শুধু জানলে চলবে না, সেটাকে কাজেও লাগাতে হবে। এভাবে যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি হাতে-কলমে কাজ করাটাও জরুরি”। বিজ্ঞানকে মানুষের কাজে লাগাতে উৎসাহী করতে অধ্যাপক রব্বানী বলেন, “দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। সাধারণ মানুষের জন্য বিজ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে। উদ্ভাবন করতে হবে তাদের জন্য।” পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা তাদের ৫ দিনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের শেষে ড. লাফিফা জামাল ও অধ্যাপক রব্বানী অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন। অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানীর হাতে সম্মানসূচক ক্রেস্ট তুলে দেন অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল। বায়োমেডিক্যাল বিভাগের চেয়ারপারসন ড. এম আবদুল কাদিরের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন অধ্যাপক রব্বানী।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মতে, “এই রকম আয়োজন বারবার হওয়া উচিত। তাহলেই বাংলাদেশ গবেষণায় এগিয়ে যেতে পারবে।” এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আরো বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলবে এবং গবেষণামুখী করবে বলে মনে করে ডিইউএসএসের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *